পিরোজপুর প্রতিনিধি: চলমান এসএসসি পরীক্ষায় নকল ও জালিয়াতি রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার অভিযোগ। এক পরীক্ষার্থীর হয়ে তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বড় বোন পরীক্ষা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩ নম্বর কক্ষে গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অদিতি হোসেন নামে এক পরীক্ষার্থীর হয়ে তার বড় বোন অনন্যা হোসেন পরীক্ষা দেন। অনন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনাটি কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়েছে।
অদিতি হোসেন পলাশডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি পূর্ব বানিয়ারী গ্রামের মো. জাকির হোসেন শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত অনন্যা হোসেন তার বড় বোন।
ঘটনার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কীভাবে একটি পাবলিক পরীক্ষায় প্রকাশ্যে প্রক্সি পরীক্ষার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তফা যুবায়ের হয়দার গত ৩ মে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শাহিন হাসান তমাল জানান, ঘটনার দিন একজন কর্মচারীকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। পরে একজন সহকারী শিক্ষক পরীক্ষা কক্ষে গিয়ে পরিচয় যাচাই করে নিশ্চিত হন যে পরীক্ষার্থী প্রকৃত ব্যক্তি নন। তবে বিষয়টি পরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. কুদ্দুস শেখ বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তার মতে, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে।
ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দীনেশচন্দ্র ঘরামী বলেন, প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখে পরীক্ষার্থীদের যাচাই করা হচ্ছিল। তবে বোরকা পরিহিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরাসরি মুখ খোলার বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। পরে অন্য একটি বিদ্যালয় থেকে খবর পেয়ে বিষয়টি যাচাই করা হয়।
পলাশডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান বলেন, অদিতি হোসেন তাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং আগেও পরীক্ষা দিয়েছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
এ বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ও হাজী আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সম্পাদক : মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রকাশক : আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
Contact : +8801822288799 (WhatsApp), E-mail : muktomonnews@gmail.com, Office : 56, A.H Tower (4th Floor), Sector-3, Road-2, Azampur, Uttara, Dhaka-1230.
© All rights reserved by Weekly MUKTOMON - 2024-25