বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকার নাগরিক জীবনে দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংকট, যানজট ও মশার উপদ্রবের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা-১৮ আসনের অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীতে টানা ভারী বৃষ্টির পর উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, উত্তরা, মোল্লারটেক, রানাভোলা, নলভোগ, ডিয়াবাড়ি ও আশকোনা এলাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে অফিসফেরত মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খাল-জলাশয় ভরাটের কারণে প্রতি বছর একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যায়।
দক্ষিণখান এলাকার বাসিন্দা হেলাল হোসেন বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে। কাজে বের হওয়া যায় না। প্রতি বছর একই অবস্থা, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান নেই।”

তুরাগের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি ছাড়াও অনেক এলাকায় দীর্ঘসময় পানি জমে থাকে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মশার উপদ্রব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়ন। খাল ও জলাধার ভরাট করে গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। ফলে বৃষ্টির পানি সরানোর স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পানিবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই অনেক এলাকায় অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও খালের পানিপ্রবাহ সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। কারণ সামান্য বৃষ্টিতেই যদি রাজধানীর সড়ক ডুবে যায়, তবে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সম্পাদক : মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রকাশক : আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
Contact : +8801822288799 (WhatsApp), E-mail : muktomonnews@gmail.com, Office : 56, A.H Tower (4th Floor), Sector-3, Road-2, Azampur, Uttara, Dhaka-1230.
© All rights reserved by Weekly MUKTOMON - 2024-25