উত্তরার এক ভবনে লাগা আগুন থেকে বাঁচার আকুতিতে গ্রিলের বাইরে বের করে রাখা এক মৃত্যুপথযাত্রীর হাত। হাতটাকে একটা সিম্বল ধরেন। একটি ব্যর্থতার চেইনের সিম্নল। ভবন ডিজাইন, ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবা সব কিছু একসাথে ভেঙে পড়ার সিম্বল।
ফায়ার কোড না মেনে কোন রকম ফায়ার এক্সিট, ফায়ার ডোর, স্মোক ভেন্ট, স্প্রিংকলার কিছুর ব্যবস্থাই না রেখে পাঁচ দশ পনেরো তালা তুলে ফেলে খালি ভাড়া দিতে পারলেই বাঁচেন মালিকগণ। এক্সিট পথ নামে থাকলেও কাজে ব্যবহৃত হয় স্টোর হাউজ, গুদামঘরে! ছাঁদ তালা মেরে রাখা হয়, আগুন লাগলে সেখানে যাওয়ার উপায় অব্দি নাই। ফার্মের মুরগীর মতো খাঁচায় আঁটকে পুড়ে দম বন্ধ হয়ে মরা লাগবে।
আমার জানামতে এইসব বিপুল টাকাওয়ালা মালিকদের এসব দূর্ঘটনার পর কখনো কোন শাস্তিও হয় না!
শিক্ষা ব্যবস্থারও ফল্ট খোঁজা যায় এসবে! সাধারণ মানুষকে এইসব ডিজেস্টার এর সময় প্রাইমারী কী কী কাজ করা দরকার তার কোন প্রাথমিক হাতেকলমে শিক্ষা এ দেশে দেয়া হয় না স্কুল লেভেলে। আগুন লাগলে, ভূমিকম্পের সময়, বন্যার সময়, বজ্রপাতের সময় কী করা উচিৎ তার কোন মহরা নাই, প্রশিক্ষণ নাই! খালি মুখস্থ কর পড়া, পাশ কর, এর বাইরে কাজ নাই আর স্কুল কলেজের।
আর ফায়ার সার্ভিস নিয়ে কীই বা বলার আছে! না আছে ওনাদের আধুনিক সরঞ্জাম, না আছে আধুনিক প্রশিক্ষণ, না আছে দ্রুত চলে আসার মতো খোলা রাস্তা, না আছে দেশের মানুষের মাথায় এক ইঞ্চি ঘিলু যে আগে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটারে যাইতে দি, ভীড় জমায়ে রাস্তা আঁটকে ভিডিওটা পড়ে করি! নাহ। সে হবে না।
আজকে ৬ জন পুড়ে মরেছে।
দুইদিন পর আরো ১২ জন মরবে।
আর চক্র চলতেই থাকবে।।।
সম্পাদক : মোহাম্মদ জিয়াউল হক, প্রকাশক : আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
Contact : +8801822288799 (WhatsApp), E-mail : muktomonnews@gmail.com, Office : 56, A.H Tower (4th Floor), Sector-3, Road-2, Azampur, Uttara, Dhaka-1230.
© All rights reserved by Weekly MUKTOMON - 2024-25