পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের উন্নয়নে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে গুরুত্ব

পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানবিষয়ক আলোচনা সভায় অতিথিরা
পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানবিষয়ক আলোচনা সভায় অতিথিরা

মুক্তমন রিপোর্ট : পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও অংশগ্রহণ বাড়বে।

মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আয়োজিত ‘পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি এস এম মোমোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা ও সাকিনা কাইউম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন দুলাল।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো অনেক নারী ও শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাদের এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকাত আলী, পরিবেশবিদ ড. আব্দুল ওয়াহাব, সপ্ননিবাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোলায়মান শাওন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান, মানবাধিকার নেতা এইচ এম মনিরুজ্জামান, আরকে রিপন ও কবি আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সীমা পুষ্প, সদস্যসচিব মনিরা বুলবুল, সহসভাপতি ইলোরা ইয়াসমীন এবং নারী উদ্যোক্তা আনোয়ারা ও লিন্ডাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সৌজন্যে ফ্রি মেডিক্যাল টিমের কার্যক্রম, নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। পরে তিনি স্টল ঘুরে দেখেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উদ্যোক্তারা তাঁদের তৈরি পণ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন।

আলোচনা সভায় নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে বা সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, সুস্থ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানসহ ১০ জনকে স্মারক সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

আলোচনা সভার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগীতশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। অতিথি, আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে কেক কাটা হয়। এ ছাড়া দুজন নারী উদ্যোক্তাকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

সংগঠনের সভাপতি এস এম মোমো বলেন, পিছিয়ে পড়া নারী ও শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

Muktomon/TA