মুক্তমন রিপোর্ট : দেশের পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুব উন্নয়ন কাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘খসড়া জাতীয় যুবনীতি ২০২৬’-এর ওপর জাতীয় যাচাইকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউএনএফপিএ (UNFPA) বাংলাদেশ ও ভিএসও (VSO) বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ হালনাগাদ করে প্রণীত খসড়া নীতির প্রাসঙ্গিকতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও কাঠামো আরও শক্তিশালী করতেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, যুব প্রতিনিধি ও প্ল্যাটফর্ম, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের সংস্থা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি খাত ও নীতিবিশেষজ্ঞসহ প্রায় ১১০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
নীতিটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে তরুণদের প্রত্যাশা এবং দেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তবতা এতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না, কর্মশালায় তা পর্যালোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, সংশোধিত যুবনীতিতে দেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও সামাজিক অংশগ্রহণে তরুণদের প্রস্তুত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কর্মশালার সভাপতি ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহের হোসেন তৃণমূলভিত্তিক যুব উন্নয়ন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংশোধিত নীতির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের অগ্রাধিকারের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের তরুণদের বাস্তবতার কার্যকর সংযোগ তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও আধুনিক দক্ষতার মাধ্যমে তরুণদের পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুববিষয়ক তথ্য ও সেবা সহজলভ্য করার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ সংশোধনবিষয়ক পরামর্শক ড. আবুল হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব অনুবিভাগের প্রধান ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ভিএসওর হেড অব প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি ইজেকিয়েল এসিপিসু, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি মাসাকি ওয়াতাবে বক্তব্য দেন।
Muktomon/TA