কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়নে উদ্যোগের কথা জানালেন মন্ত্রী

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন সমাপনী ও ডাক্তার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন সমাপনী ও ডাক্তার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

মুক্তমন রিপোর্ট : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যত্নবান হতে হবে। যন্ত্রপাতির নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাঁদের শারীরিক সমস্যার বিস্তারিত জানা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া এবং আন্তরিক ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা রোগীদের আস্থা অর্জন করতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশদূষণ ও খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়ে রোগীদের সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর তাঁদের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Muktomon/TA