মুক্তমন রিপোর্ট : চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণায় বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কারসহ বিভিন্ন গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে সন্দেহজনক ওই চালানটি শনাক্ত হয়। এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, চালানটিতে একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, বিএমডব্লিউ ৭৪ওআই মডেলের একটি গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক পাওয়া গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, চালানটিতে ব্যবহৃত গাড়ির ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের উল্লেখযোগ্য অসংগতি ধরা পড়ে।
পাওয়া গেছে বিএমডব্লিউ রেসিং কার
চালানটির আমদানিকারক মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড। রপ্তানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি।
কায়িক পরীক্ষায় যন্ত্রাংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দুই আসনের একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গাড়িটি ২০০৯ সালের S Drive 23i মডেলের এবং এর ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
একই চালানে বিএমডব্লিউ ৭৪ওআই মডেলের একটি গাড়ির সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফও পাওয়া যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির মডেল ইয়ার ২০১৬ এবং ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি।
গাড়িটির শুধু সামনের অংশ চালানে পাওয়ায় বিষয়টি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। এর অবশিষ্ট অংশ অন্য কোনো চালানে আমদানি করা হয়েছে কি না বা পৃথক চালানে এনে পরে গাড়িটি পুনঃসংযোজনের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ইসুজু ট্রাকের কেবিনে যন্ত্রাংশ
চালানটিতে পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাকও পাওয়া গেছে। প্রতিটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এর বাইরে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দার পর্যবেক্ষণে ঘোষণায় উল্লেখ করা পণ্য এবং বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন ও অবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। এ কারণে পণ্যের প্রকৃত পরিচয়, পরিমাণ, মূল্য এবং আমদানির অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা বলছে, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের অসংগতির কারণে ভুল ঘোষণা বা মিসডিক্লারেশনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির এ ধরনের প্রচেষ্টা শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
Muktomon/TA