মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প নিয়ে বায়োপিক Michael

Michael সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে জাফর জ্যাকসন
Michael সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে জাফর জ্যাকসন

মুক্তমন রিপোর্ট : মাইকেল জ্যাকসনের জীবন, সংগীত, খ্যাতি ও ব্যক্তিগত সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত বায়োপিক Michael দর্শকদের সামনে কিং অব পপের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছে। অ্যান্টোয়ান ফুকুয়া পরিচালিত সিনেমাটিতে শৈশব থেকে খ্যাতির শীর্ষে ওঠার সময়ের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব দিয়ে সিনেমার গল্প শুরু। বাবা জো জ্যাকসন পাঁচ ছেলেকে নিয়ে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘জ্যাকসন ৫’। ছেলেদের সফল করার বিষয়ে জো ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। সিনেমায় মাইকেলের সঙ্গে তার বাবার কঠোর আচরণের বিষয়টিও দেখানো হয়েছে।

জ্যাকসন ৫ একসময় মোটাউনের নজরে আসে। সুজান দে পাসের সহযোগিতায় তারা মোটাউনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরপর ধীরে ধীরে মাইকেল নিজের একক ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে শুরু করেন।

১৯৭৮ সালে কুইন্সি জোন্সের সঙ্গে Off the Wall অ্যালবামে কাজ করেন মাইকেল। অ্যালবামটি ব্যাপক সাফল্য পেলেও পরিবারের প্রভাব ও বাবার সঙ্গে টানাপোড়েন তার পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলছিল। পরে আইনজীবী জন ব্রাঙ্কার সহায়তায় বাবার সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্যোগ নেন তিনি।

মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। মাইকেলের সঙ্গে তার চেহারার মিল দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কাড়ে। গান, নাচ ও মঞ্চ পরিবেশনার দৃশ্যগুলোতেও জাফরের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

১৯৮৪ সালের পেপসি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনার ঘটনাটিও সিনেমায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাইরোটেকনিকের আগুনে মাইকেলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টিও সিনেমায় উঠে এসেছে।

ভিক্টরি ট্যুরের শেষ কনসার্ট এবং ১৯৮৮ সালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে তার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সিনেমার গল্প শেষ হয়। বিশেষ করে মাইকেলের বিখ্যাত মুনওয়াকসহ মঞ্চ পরিবেশনার দৃশ্যগুলো সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ।

চলচ্চিত্রটির দৃশ্যায়ন ও মঞ্চ পরিবেশনার প্রশংসা থাকলেও মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এতে অনুপস্থিত বলে মনে করেছেন পর্যালোচক। পরবর্তী জীবনের বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং শৈশব হারানোর অনুভূতিও আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যেত বলে মত দেওয়া হয়েছে।

মাইকেলের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও বডি ডিসমরফিয়ার মতো বিষয় নিয়েও আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখানোর সুযোগ ছিল বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, Michael পুরো জীবনকাহিনি নয় বরং মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং খ্যাতির উত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি অধ্যায়ের মতো। সিনেমাটি খ্যাতির আড়ালে একজন শিশুশিল্পীর বেড়ে ওঠার চাপ ও সংগ্রামের দিকটিও দর্শকদের সামনে তুলে ধরে।

Muktomon/TA