চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা বিএনপির

উত্তরার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী
উত্তরার সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী

মুক্তমন রিপোর্ট : চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

উত্তরার আব্দুল্লাহপুর সংলগ্ন পলওয়েল মার্কেটের সামনে আয়োজিত সমাবেশে রিজভী বলেন, বহু ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ও ১২ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় গণতান্ত্রিক বিজয়ের সূচনা হয়েছে। গত ১৭ বছরে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতাকর্মীরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, গুম, খুন, গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যা ছিল আগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের অর্থ চুরি ও সম্পদ লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের একসময় পালিয়ে যেতে হয়। গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে বিএনপির মূল দাবি ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন—এমন দাবি করে রিজভী বলেন, জনগণ পাঁচ বছর পর পর ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত করবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট ও বিভিন্ন দেশের সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার এক লিটার ডিজেলে ২০৫ টাকা ব্যয় করলেও ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করছে এবং প্রতি লিটারে ৯০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র যাচাই তিনি উপস্থাপন করেননি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা ঠেকাতে দলটি কর্মসূচি পালন করছে।

বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক লংমার্চের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে এসব কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচির ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সমাবেশে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান।

সমাবেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় সমাবেশস্থল থেকে মিছিল বের হয়ে উত্তরার আজমপুরে গিয়ে শেষ হয়।

Muktomon/TA