মঈনউদ্দিন মনি : মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৩তম মহান ঈদে আজম উপলক্ষে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ফাতেহা শরীফ ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার রাতে আয়োজিত এ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কাট্টলী পাহাড়তলী আব্দুর পাড়া জামে মসজিদের খতিব মুজাহেদে আহলে সুন্নাত আল্লামা হারুনুর রশিদ। এছাড়া পশ্চিম মাদারবাড়ি জাহানারা ইব্রাহিম ফাউন্ডেশন জামে মসজিদের খতিব এবং চৌধুরী পাড়া হালিশহর দারুল হিকমাহ সুন্নিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, লেখক ও গবেষক আল্লামা মুফতি রেজাউল কাউসার বক্তব্য দেন।
আলোচনায় আল্লামা মুফতি রেজাউল কাউসার বলেন, “ধর্মের নামে অধর্ম, উগ্রবাদ ও মব সন্ত্রাসীদের উৎখাত করতে পারলেই সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব সব মানুষের জন্য নিরাপদ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।”
তিনি বলেন, ধর্মের নামে অধর্ম, উগ্রবাদ ও মব সন্ত্রাস দূর করতে সমাজে মুক্ত সংস্কৃতির চর্চা জরুরি। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও কল্যাণকর সংস্কৃতিচর্চাকে ইসলাম নিষেধ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান বিশ্বের উগ্রবাদ ও একক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আলো-বাতাস, মাটি ও পানির মতো রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পদও সব মানুষের—কোনো একক গোষ্ঠীর নয়।
মুফতি আল্লামা রেজাউল কাউসার তাঁর বক্তব্যে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াতের দিকনির্দেশনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাণাধিক প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পাওয়াই ঈদে আজম। তাঁর মতে, প্রিয়নবীর মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়ার উপলব্ধিই ঈদে আজমের মূল তাৎপর্য।
আল্লামা রেজাউল কাউসার বলেন, ঈদে আজম শুধু একটি দিনের অনুষ্ঠান নয়; এটি ঈমানী চেতনা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বিষয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঈদে আজমের মাধ্যমে সত্য, জ্ঞান, অধিকার ও স্বাধীনতার চেতনা ধারণের আহ্বান জানানো হয়।
মিলাদ ও ঈদে আজম শব্দের ব্যবহার নিয়েও তিনি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ‘ঈদে আজম’ শব্দটি শানে রেসালাত ও ঈমানী চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত, আর ‘মিলাদ’ শব্দটি সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
মাহফিলে বক্তারা বস্তুবাদী ও নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শ থেকে উদ্ভূত মিথ্যা, অবিচার, জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সত্য, সুবিচার, মানবতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, দয়াময় আল্লাহর সর্বোচ্চ রহমত হিসেবে সমগ্র মানবজাতির জন্য সত্যের আলো ও মুক্তির উৎস এবং সকল কল্যাণের মূল হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মুসলমানদের জন্য পরম শোকরিয়া ও আনন্দের বিষয়।
অনুষ্ঠানে শানে রেসালাত সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিশ্বের সব মানুষের কল্যাণ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় সালাতু সালাম ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান বক্তা মুফতি আল্লামা রেজাউল কাউসার।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
Muktomon/TA