ডাকসুতে জিন্নাহ'র ছবি ভাঙা ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা

ডাকসুর সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা
ডাকসুর সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা

মুক্তমন রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ড এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন’।

সংগঠনটির অভিযোগ, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের সময় সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার মতো প্রশ্ন করেছেন। তাদের দাবি, ওই প্রতিবেদকের আচরণ সাংবাদিকতার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ডাকসুর সংগ্রহশালায় ইতিহাসের চিত্র প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা হয়েছিল। সংগ্রহশালাটি উদ্বোধনের সময় ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রদর্শনী নিয়ে অভিযোগ, আপত্তি, সংযোজন বা পরামর্শ থাকলে তা এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রহণ করা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদর্শনীতে সংযোজন-বিয়োজনের কথা বলা হয়।

সংগঠনটির দাবি, সোমবার সংগ্রহশালায় থাকা জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করেন এক ব্যক্তি। ভিডিও ফুটেজে তাকে দুটি ছবি অপসারণ করে উত্তপ্ত বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এ সময় সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক অন্য একটি ছবি কেন অপসারণ করা হয়নি—এমন প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর দাবি, প্রশ্নটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না এবং প্রতিবেদক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে সময় টেলিভিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্কের সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, একটি সংবাদমাধ্যম ওই ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করলেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বলে পরে জানা গেছে। তবে এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পক্ষে বা বিপক্ষে তাদের অবস্থান নয়; বরং উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করাই তাদের মূল প্রশ্ন।

তারা দাবি করেছে, ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মব তৈরি না করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তাদের মতে, গণমাধ্যমে এই পদক্ষেপের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পাশাপাশি তার বাংলাবিরোধী অবস্থানের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। ছবির ক্যাপশনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, জিন্নাহর বাংলাবিরোধী অবস্থানের চিত্র প্রদর্শন না করা হলে তাকে আড়াল করার অভিযোগ উঠতে পারত। তাই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতেই ছবিটি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে তার বক্তব্য।

‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন’ বলছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে গণমাধ্যমের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সাংবাদিকতার নিয়ম অনুযায়ী তুলে ধরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেতে পারে; তবে কোনো পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত বা সংঘাতময় করে তোলার মতো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটি সময় টেলিভিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

এ ছাড়া বিবৃতিতে সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক বুলবুল রেজাকে ঘিরে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগেরও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এই বিবৃতিতে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মতো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

Muktomon/TA