নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ উদ্যোক্তায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রি-কপ৩১ সম্মেলনে

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ উদ্যোক্তায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান প্রি-কপ৩১ সম্মেলনে

মুক্তমন রিপোর্ট : নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-কে সামনে রেখে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ বাংলাদেশ), সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) এবং ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন। তাঁরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জলবায়ু অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব ব্যবসা এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

ক্লিন এনার্জিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার আশ্বাস

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে ডিএসসিসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্য হিস্যার দাবি

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থান আরও জোরালো করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।

বায়ুদূষণ রোধে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক পলিউশন স্টাডিজের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর ঘটানো গেলে পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবুজ উদ্ভাবনে সরকারি অর্থায়নের আহ্বান

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআরের উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, বাংলাদেশের সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি তহবিল এবং কপ সম্মেলনের জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

জলবায়ু নীতিতে তরুণদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার দাবি

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ইআরপিডিএফ বাংলাদেশের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন বলেন, জলবায়ু নীতি নির্ধারণে তরুণদের শুধু দর্শক বা ধারণার উৎস হিসেবে রাখলে চলবে না; মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারী হিসেবেও তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মো. শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মীর মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ রকিব, মাকসুদ হোসেন, রুবাইয়া নাসরিন সেঁজুতি, মাহবুব সুমন ও আল-আমিন প্রান্তসহ অনেকে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।