বিচার না পেয়ে হতাশ মেঘলা মুক্তা, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

বনানীর সড়ক দুর্ঘটনার বিচার ও তদন্তে বিলম্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা।
বনানীর সড়ক দুর্ঘটনার বিচার ও তদন্তে বিলম্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা।

মুক্তমন রিপোর্ট : বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় তিন মাস পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা মেঘলা মুক্তা। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন আইসিইউ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। তার অভিযোগ, মামলা তদন্তে গাফিলতি, অভিযোগ নিবন্ধনে বিলম্ব এবং পুলিশের কিছু সদস্যের ভূমিকার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

ঢাকা পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মেঘলা মুক্তা জানান, গত ২৮ জুলাইয়ের দুর্ঘটনার পর তার বন্ধু ও সহকর্মী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে অভিযোগ করেন। তবে তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা তার বক্তব্য বা পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেননি। দুর্ঘটনার ভিডিও ও জড়িত গাড়ির নম্বর পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও কার্যকর তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।

মেঘলা মুক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর তার বাবা বনানী থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অভিযোগটি থানার কম্পিউটার সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়নি। পরে তার বাবা আবার অভিযোগ করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে সেটি নিবন্ধন করান। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তদন্ত কর্মকর্তা দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে আটক করার কথা জানান।

এত দিন পর গাড়ি ও চালক আটক হওয়ায় তদন্তের সময়ক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তার দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য সাক্ষাৎকারে বিস্তারিতভাবে উঠে আসেনি।

মেঘলা মুক্তা জানান, মামলার কাগজপত্র ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। এখন তার প্রত্যাশা, বনানী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

তার অভিযোগ, অভিযুক্ত পক্ষের জামিন ঠেকাতে পরিবারের সদস্যদের বারবার আদালতে যেতে হচ্ছে। বয়সের কারণে বাবার পক্ষে নিয়মিত আদালতে যাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর তার শারীরিক অবস্থাও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মুখের ক্ষতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এখনো বেশির ভাগ সময় বাসায় থাকতে হচ্ছে তাকে।

এর আগে সুস্থ হয়ে ওঠার পর বনানী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মেঘলা মুক্তা। তিনি জানান, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছিলেন, কাগজপত্র হাতে পেলে আদালতে জমা দেওয়ার মতো খুব বেশি কাজ বাকি থাকবে না। প্রয়োজনীয় আরও কাগজপত্র চাওয়া হলে সেগুলো দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে দেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, বিচার পেতে পেতে মানুষ মরে যাবে, আর বেঁচে থাকলে বছরের পর বছর লড়াই করতে হবে। তিনি বলেন, নিজের চিকিৎসা, স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও কাজে ফিরে আসার প্রস্তুতির পাশাপাশি দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

তবে ব্যক্তিগত হতাশার মধ্যেও নিজের অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন মেঘলা মুক্তা। তার দাবি, দুর্ঘটনার পর তদন্তে যেসব পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া সম্ভব ছিল, সেগুলো সময়মতো নেওয়া হলে তাকে ও তার পরিবারকে এতটা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হতো না।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

Muktomon/TA