চীন সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে

চীন সফর উপলক্ষে দূতাবাসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ
চীন সফর উপলক্ষে দূতাবাসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ

মুক্তমন রিপোর্ট : চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের ধারাবাহিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে সহায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সফরপূর্ব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের চীন সফর। এ সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে চীনের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সফরকারী দলের সদস্যদের চীনের সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। দেশটি কীভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়েছে, তা অনুধাবন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান

বাংলাদেশের জন্য চীনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। তাঁর মতে, বৈশ্বিক উৎপাদনে চীনের বড় অংশীদারত্ব দেশটির উন্নয়ন মডেলকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় করে তুলেছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়। সময়ের সঙ্গে এ সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে এবং বর্তমানে তা সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

ই-ভিসা ও বাণিজ্য সহযোগিতায় গুরুত্ব

দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু, উদ্যোক্তাদের জন্য সালিশি সহায়তা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চীনা দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Muktomon/TA