চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার গায়েব, সংসদীয় কমিটিতে উদ্বেগ

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার গায়েব হওয়ার অভিযোগ ও বন্দর নিরাপত্তা নিয়ে সংসদীয় কমিটির আলোচনা।
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার গায়েব হওয়ার অভিযোগ ও বন্দর নিরাপত্তা নিয়ে সংসদীয় কমিটির আলোচনা।

মুক্তমন রিপোর্ট : চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দিয়েছে কমিটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট হুইপ, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। বন্দরগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উঠে আসে।

এ সময় বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিলামের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া এবং কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। বন্দরের কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পগুলোর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয় কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা বা মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত দ্রুত ফেরত আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকারি অর্থের সুরক্ষা, প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Muktomon/TA