কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতে শ্রমমন্ত্রীর নির্দেশনা

সিলেটে শ্রম পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেটে শ্রম পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

মুফিজুর রহমান নাহিদ : শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম পরিদর্শকদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে কলকারখানায় কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর পরিদর্শন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সিলেটের রোজ ভিউ হোটেলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) শ্রম পরিদর্শকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশিক্ষণে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কাঠামোগত, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মন্ত্রী বলেন, অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। এসব ঝুঁকি কমাতে শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পরিদর্শনের সময় কোনো কারখানায় লাইসেন্সের ঘাটতি বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের বিষয় নজরে এলে তা নথিভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। দুর্ঘটনায় একজন দক্ষ শ্রমিকের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য ক্ষতি নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতার জন্যও বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পরিদর্শকদের কাজে বাধা দেওয়া বা তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেওয়া হলে কিংবা দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা করা হলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখানো কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিদর্শন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা বরদাশত করা হবে না।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, শ্রম আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ বাস্তবায়নের উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি সময়োপযোগী শ্রম পরিদর্শন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার ওলে জাস্টেনসেন এবং সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ডিআইএফইর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Muktomon/TA