ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানে সাংবাদিকের ওপর পুলিশ কনস্টেবলের হামলা, তদন্তের আশ্বাস

WhatsApp Image 2025-11-23 at 15.54.13_511e1b2a
WhatsApp Image 2025-11-23 at 15.54.13_511e1b2a

মুক্তমন রিপোর্ট : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘটিত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রোববার, ২২ নভেম্বর সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএনসিসির দল অভিযান চালাচ্ছিল। ওই সময় উত্তরা এলাকায় দোকানের সামনে অভিযান চলাকালে দৈনিক নতুন কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার ইব্রাহিম হাসান উপর পুলিশের এক কনস্টেবলের হামলার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান কভারেজের অংশ হিসেবে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক ইব্রাহিম হাসান। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করেই অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কনস্টেবল তার ওপর চড়াও হন। হামলায় সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ভেঙে যায় এবং তিনি শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। ঘটনাটি উপস্থিত অন্যান্য সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর সেখানে দায়িত্ব পালন করা ডিএনসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাংবাদিক ইব্রাহিম হাসান অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় আমাদের কাজ সংবাদ সংগ্রহ করা। সেখানে হামলার শিকার হওয়া দুঃখজনক। আমার মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আমি শারীরিকভাবেও আঘাত পেয়েছি।”

অভিযানে অংশ নেওয়া অন্যান্য সাংবাদিকরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের কভারেজ করতে গিয়ে প্রায়ই তারা বাধার মুখে পড়েন। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনাটি সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

পর্যবেক্ষকরা বলেন, উচ্ছেদ অভিযান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং মাঠে থাকা সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।