নির্বাচনবৃহত্তর উত্তরারাজনীতি

লোকাল এলাকা বলে আর অবহেলা নয়, উন্নয়নে সমতার প্রতিশ্রুতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের

মুক্তমন রিপোর্ট : ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সেক্টরভিত্তিক এলাকা ও তথাকথিত ‘লোকাল’ এলাকার মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, উত্তরা সেক্টরের তুলনায় রেললাইনের পরবর্তী উত্তরখান, দক্ষিণখান ও তুরাগ এলাকা পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আগামী দিনে পুরো ঢাকা-১৮ আসনকে সেক্টর এলাকার মতো পরিকল্পিত ও আধুনিক জনপদে রূপান্তর করা হবে।

সকালে দক্ষিণখান রেললাইনের পাশের দেওয়ান সিটিতে গণসংযোগ কর্মসূচির সূচনায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এই এলাকার মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার চোখে দেখা হয়েছে। কেউ কেউ ‘নিম্ন অঞ্চল’ বলেও কটাক্ষ করেছে। অথচ এখানকার মানুষ কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে নয়। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেক্টর ও লোকাল এলাকার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রেললাইনের দুই পাশের এলাকাকে কার্যকর সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে, যাতে মানুষ সহজেই কর্মস্থল, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় পৌঁছাতে পারে।

আবাসন ও নগর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজউকের নীতিমালা মেনে পরিকল্পিত ইমারত নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে। অপরিকল্পিত ভবন ও অবৈধ স্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগ বেড়েছে। এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষিণখানের সড়ক প্রশস্তকরণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “কেউ যেন বিনা অপরাধে হয়রানির শিকার না হয়—এটি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের পক্ষে কাজ করতে হবে।” নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির রাজনীতিতে অপরাধের কোনো স্থান নেই। আমরা নিজেরা অপরাধে জড়াবো না, কাউকেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না। আমাদের রাজনীতি মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য।”

নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ইতোমধ্যেই নারীদের কল্যাণে বিভিন্ন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফারমার কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিএনপি বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ সময় পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button