নববর্ষের শোভাযাত্রা কেন রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হলো?


মুক্তমন ডেস্ক : বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ শোভাযাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংস্কৃতিক আয়োজনের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নাম পরিবর্তন, ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে এ বিতর্ক দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
সরকার চলতি বছর শোভাযাত্রার নাম নির্ধারণ করেছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’, যা অতীতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ কিংবা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে পরিচিত ছিল। এই নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, একসময় পুরো পহেলা বৈশাখ উদযাপনকেই ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বিতর্কিত করার চেষ্টা দেখা গেলেও, গত এক দশকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে শুধুমাত্র শোভাযাত্রা। বিশেষ করে ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই এর রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা মূলত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নানা প্রতীকী মুখোশ ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরা হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আয়োজনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখলেও, আবার কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন এবং বিভিন্ন মোটিফ ব্যবহারের বিষয়টি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা থেকেই এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশাখ উদযাপন একটি সর্বজনীন উৎসব, যেখানে ‘মঙ্গল’, ‘আনন্দ’ ও ‘বৈশাখ’—সবই পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই এটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নববর্ষের এই শোভাযাত্রা কি শুধুই সাংস্কৃতিক আয়োজন, নাকি এটি এখন স্থায়ীভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে?- বিবিসি অবলম্বনে।



