অর্থ-বাণিজ্য

প্যারাফিনের আড়ালে বাজারে ঢুকছে ‘ডাইমিথাইল’ :জনস্বাস্থ্যে শঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধ, চট্টগ্রাম : ঢাকা ও চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র প্যারাফিনের নামে ভিন্নধর্মী রাসায়নিক পদার্থ বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ‘ডাইমিথাইল’ নামে পরিচিত একটি শক্তিশালী সলভেন্ট মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করে তা বাজারজাত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ কেজি রাসায়নিক পদার্থ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্যারাফিন হিসেবে আমদানি করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এএসএম কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নাম পাওয়া গেলেও, তারা পণ্যটি খালাস নেয়নি। পরবর্তীতে কাস্টমসের নিলাম শাখা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষার পর পণ্যটি নিলামে তোলে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিলামে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান এসকেএম ইন্টারন্যাশনাল পণ্যটি ডেলিভারি নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে প্রদর্শন করলে সেটি ‘ডাইমিথাইল সালফোক্সাইড’ (DMSO) সলভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পণ্যের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লিকুইড প্যারাফিনের বাজারমূল্য প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যেখানে ডাইমিথাইল সালফোক্সাইডের দাম কয়েকগুণ বেশি। ফলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অধিক মুনাফার আশায় এ ধরনের জালিয়াতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাফিন ও ডাইমিথাইল সালফোক্সাইড দেখতে কিছুটা মিল থাকলেও ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্যে রয়েছে বড় পার্থক্য। ডাইমিথাইল সালফোক্সাইড একটি শক্তিশালী দ্রাবক, যা ত্বকের মাধ্যমে দ্রুত শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থকেও বহন করতে সক্ষম। সঠিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এর ব্যবহার স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে, ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনে পণ্যটিকে প্যারাফিন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে ভিন্ন পরিচয় পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কাস্টমসের তদারকি প্রক্রিয়া নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button