বৃহত্তর উত্তরা

রাজলক্ষ্মী ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি বিতর্ক : আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের প্রাধান্যের অভিযোগ হেলাল তালুকদারের ‍বিরুদ্ধে

মুক্তমন রিপোর্ট : রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স ব্যবসায়ীদের দোকান মালিক সমিতির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদার কমিটি গঠনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়েছেন। যা বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঘোষিত এই কমিটিতে সাহেদ মাহমুদসহ কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। তবে একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, এ কমিটি গঠনে কোনো নির্বাচন হয়নি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। নিজের পছন্দমতো লোকদের বসিয়ে একটি সিলেকশন কমিটি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, হেলাল তালুকদার তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিটিতে সাহেদ মাহমুদ ছাড়াও বশির আহমেদ ও সাইফুল ইসলাম বাইনুসহ কমপক্ষে ৫ জনকে অন্তরভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “ব্যবসায়ী সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা উচিত। কিন্তু এখানে সেটি মানা হয়নি। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তার ওপর পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ি রাজনীতিবিদ এই কমিটিতে আসায় পরিবেশ প্রয়াজনীয় ভারসাম্য হারাবে।”

আরেকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, “নির্বাচন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। হেলাল তালুকদার আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ি নামধারী রাজনীতিবিদদের সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার ও প্রেসার গ্রুপ হিসেবে অবস্থান নেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে অনেককে নেপথ্যে থেকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ আছে।”

ব্যবসায়িরা জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ ও প্রভাব বিস্তারের জন্য সাহেদ মাহমুদ তাদের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করেছে। জুলাই আন্দোলনে সরাসরি তৎকালীন সরকার দলীয় ক্যাডারদের সুবিধা দেয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।

তালুকদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় রাজধানীর ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button