প্রযুক্তি

ঢাকায় চালু হলো AI ক্যামেরাভিত্তিক ই-প্রসিকিউশন, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা

সিগন্যাল ভাঙা থেকে মোবাইলে কথা বলা—সবকিছু নজরদারিতে; জরিমানার নোটিশ যাবে সরাসরি মোবাইলে

  • ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চালু AI ক্যামেরা
  • ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা
  • মোবাইলে যাবে জরিমানার SMS
  • ২৫টি সিগন্যাল এলাকায় বাড়তি নজরদারি
  • গাড়ির মালিকদের তথ্য হালনাগাদ রাখার পরামর্শ

রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন যুগের সূচনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চালু হয়েছে AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চালিত ক্যামেরা ও ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থা।

নতুন এই ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে চালককে রাস্তায় থামিয়ে মামলা করা হবে না। বরং ক্যামেরায় অপরাধ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হবে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইলে SMS-এর মাধ্যমে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হবে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, শাহবাগ, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটরসহ রাজধানীর অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল এলাকায় এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যক্রম চালু হয়েছে।

📌 ক্যামেরায় যেসব অপরাধ ধরা পড়বে:

  • লাল বাতি অমান্য করা
  • জেব্রা ক্রসিং দখল
  • উল্টো পথে গাড়ি চালানো
  • হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো
  • অতিরিক্ত যাত্রী বহন
  • সিটবেল্ট ব্যবহার না করা
  • গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা
  • অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহার

💰 জরিমানার পরিমাণ:

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী—

  • ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা
  • বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
  • অন্যান্য অপরাধেও আইন অনুযায়ী শাস্তি ও জরিমানা

🚦 নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে:

ডিএমপি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল ও পুশ-বাটন পেডেস্ট্রিয়ান ক্রসিংও চালু করা হচ্ছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলেও মামলা হতে পারে।

⚠️ গাড়ির মালিকদের জন্য সতর্কতা:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির মালিকদের অবশ্যই রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর সক্রিয় রাখতে হবে এবং BRTA ডাটাবেজে তথ্য হালনাগাদ আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ, নির্ধারিত সময়ে জরিমানা পরিশোধ না করলে পরবর্তীতে ওয়ারেন্টসহ আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। চালক অন্য কেউ হলেও দায় বর্তাবে গাড়ির মালিকের ওপর।

এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ ও বিআরটিএর মধ্যে তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় গাড়ির কাগজপত্র বা লাইসেন্স সংক্রান্ত ত্রুটিও সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button