জাতীয়

‎আইনগত ভিত্তি ছাড়াই বিএডিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ১৯০৪-এর বিতর্কিত আজিজ-মাসুদের কার্যক্রম, তীব্র উত্তেজনা শ্রমিকদের মাঝে

নিজস্ব প্রতিবেদক:বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর শ্রমিক সংগঠন বিএডিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (রেজি: নং- বি-১৯০৪)-এর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শ্রম অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই একটি স্বঘোষিত কমিটি গত প্রায় দুই বছর ধরে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিনিয়র, ত্যাগী ও দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ব্যক্তি স্বার্থে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিটির মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারীদের বদলি, হয়রানি এবং নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

‎এছাড়াও স্বঘোষিত কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিএডিসির এক প্রধান শিক্ষককে হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করেছেন। একই সঙ্গে বহু কর্মচারীর কাছ থেকে বদলির আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আমি এই অবৈধ কমিটির অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে হেড অফিস থেকে বদলি করা হয়েছে।

‎এছাড়া, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক ব্যানারে সক্রিয় ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের অভ্যন্তরে এসব নেতাদের ‘বসন্তের কোকিল’ আখ্যা দিয়ে সিনিয়র নেতারা দাবি করেন, তাদের কারণে সংগঠনটি বর্তমানে চরম ইমেজ সংকটে পড়েছে।

‎সংগঠনের একাধিক সিনিয়র নেতারা জানান, লোভী ও স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ কর্মচারীরা সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। তারা শ্রম আইন অনুযায়ী সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানান। উল্লেখ্য, সংগঠনটির সর্বশেষ কমিটির মেয়াদ ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি শেষ হয়েছে।

‎এ বিষয়ে স্বঘোষিত সভাপতি আজিজুর রহমান দাবি করেন, “আমাদের কমিটিকে শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

‎তবে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী কোনো ট্রেড ইউনিয়নের বৈধতা পেতে হলে শ্রম অধিদপ্তরের নিবন্ধন ও অনুমোদন বাধ্যতামূলক; কোনো রাজনৈতিক সংগঠন এ ধরনের অনুমোদন দিতে পারে না।


‎বর্তমান স্বঘোষিত কমিটি অনির্বাচিত
‎এ বিষয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম সত্যতা স্বীকার করেন, জানতে পারলাম বর্তমান কমিটির অনুমোদন শ্রমিক দল দিতে পারে কিনা যেহেতু বিএডিসি এমপ্লয়িজ ট্রেড ইউনিয়ন ১৯০৪ এর কমিটি অনির্বাচিত ? এবিষয়ে তিনি বলেন, দিতে পারে। ট্রেড ইউনিয়নতো শ্রম অধিদপ্তরের অধিনে শ্রমিক দল কিভাবে কমিটি দেয় শ্রম আইন ও মহামান্য হাইকোর্ট এর নির্দেশনা মোতাবেক অবৈধ? এবিষয়ে তিনি বলেন, শ্রম আইন ও হাইকোর্ট এর রায় বাতিল করা হয়েছে। কখন বাতিল করা হয়েছে? এবিষয়ে তিনি কোন প্রমান দিতে পারেননি। বর্তমান বিএডিসি এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (রেজিঃ বি -১৯০৪)-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটি নির্বাচিত নয়।

‎‎অন্যদিকে, স্বঘোষিত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সরদার স্বীকার করেন, শ্রম অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো ট্রেড ইউনিয়নের আইনগত ভিত্তি থাকে না। আমাদের এই কমিটির আইনগত ভিত্তি নেই।

ঢাকা মহানগর দক্ষিনের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি বিএডিসিতে গিয়ে বিএডিসির ট্রেড ইউনিয়নে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছেন এবিষয়ে জানতে আব্দুর রহিমের সাথে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

‎বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সচিব (উপসচিব) আবু জাফর রাশেদ বলেন, বিএডিসি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এই ইউনিয়নটি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক বা কাঠামোগত কোনো সংগঠন নয়। তবে কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসরণ করতে পারেন।

‎শ্রম অধিদপ্তরের ট্রেড ইউনিয়ন শাখার একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে পরিচালিত কমিটির কোনো বৈধ অনুমোদন বা আইনগত স্বীকৃতি নেই। ইতোমধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

‎আজিজুর রহমান ও মাসুদ সরদারের নেতৃত্বাধীন পকেট কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচন দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন বিএডিসিতে কর্মরত সাধারণ কর্মচারী-শ্রমিকরা। তারা বলেন, আমরা নির্বাচন ছাড়া দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছি। এখনো নির্বাচন ছাড়া কমিটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা এর অপসারণ চাই এবং দ্রুত নির্বাচন চাই।

‎বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান অনির্বাচিত কমিটির ওপর প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, এই কমিটি অপসারণ করে সকলের অংশগ্রহণে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হোক।

‎সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button