ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, ভোট শান্তিপূর্ণ দাবি ইসির

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, ভোট শান্তিপূর্ণ দাবি ইসির

ব্যালটে জোরপূর্বক সিল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কারচুপির অভিযোগ জামায়াতসহ বিরোধী পক্ষের। তবে দৃশ্যমান অনিয়মের প্রমাণ পায়নি বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ ঘিরে অনিয়ম, কারচুপি ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্দিষ্ট প্রতীকে জোরপূর্বক সিল মারার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, তাদের পর্যবেক্ষণে দৃশ্যমান অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কমিশনের দাবি, সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। দিনভর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

ব্যালটে সিল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

নির্বাচন চলাকালে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

বিরোধী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম কিংবা ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটলে এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করা হবে। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিরপেক্ষ রাখা জরুরি।

তবে কোন কোন কেন্দ্রে এসব ঘটনা ঘটেছে, কতজন ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কিংবা অভিযোগগুলোর পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে—তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ইসির বক্তব্য, সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিল ভোট

নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দাবি করেন, বিরোধী প্রার্থীদের উত্থাপিত অনিয়মের দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ কমিশনের নজরে আসেনি।

ইসির বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন ভবন থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের নজরদারির ব্যবস্থাও ছিল। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কমিশন ভোটগ্রহণের পরিবেশকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

তবে বিরোধী পক্ষের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা নিরসনে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তথ্য এবং পর্যবেক্ষণের নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ায় শূন্য হয় আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

এই উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।

অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী বটগাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অভিযোগের নিষ্পত্তিই এখন গুরুত্বপূর্ণ

নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করলেও বিরোধী পক্ষের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি এবং প্রমাণ যাচাই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য, ভিডিও ফুটেজ, লিখিত অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কমিশনের বিস্তারিত তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তির তথ্য প্রকাশিত হলে নির্বাচনী পরিস্থিতির আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন।