বৃহত্তর উত্তরা

কাওলায় গভীর রাতে গরুর ট্রাক ঘিরে উত্তেজনা: বনরূপা হাউজিংয়ের হাটসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ট্রাক সরানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কাওলা এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৩০০ ফিট এলাকার একটি কোরবানির পশুর হাটে আসা গরুভর্তি কয়েকটি ট্রাক জোরপূর্বক বনরূপা হাউজিং সোসাইটির ভেতরের হাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে মহাসড়কজুড়ে আতঙ্ক, যানজট ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কাওলা সংলগ্ন এলাকায় পশুবাহী ট্রাকের গতিপথ নিয়ে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত হাটে যাওয়ার পথে তাদের ট্রাক থামিয়ে বিকল্প স্থানে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে মহাসড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।

একাধিক পশু ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, “হাটে প্রবেশকে কেন্দ্র করে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। কে কোন হাটে পশু নামাবে, তা নিয়েও চাপ সৃষ্টি করা হয়।” তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বনরূপা হাউজিং সোসাইটির হাট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। মহাসড়ক, হাট এলাকা ও পশুবাহী যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

প্রশাসন বলছে, রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট পরিচালনায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক পশুবাহী ট্রাক আটকে রাখা, নির্ধারিত গন্তব্য পরিবর্তনে বাধ্য করা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অবৈধভাবে হাটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর হাটে শৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট, পুলিশ টহল ও সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ট্রাক নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত হাসিল আদায়, চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে কাওলার সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও অভিযোগ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, “যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরা নিরাপদে হাটে যেতে নিরুৎসাহিত হবেন।”

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, জবরদস্তি বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button