আইন-অপরাধবৃহত্তর উত্তরাসারাদেশ

আশুলিয়ায় কিশোর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ৩৮ টুকরা কঙ্কাল উদ্ধার

মুক্তমন রিপোর্ট :সাভারের আশুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নগদ টাকার প্রয়োজনে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ১৫ বছরের কিশোর মিলন হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মিলন হোসেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ১৮ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন তাঁর মা জোসনা বেগম। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর আশুলিয়া মডেল টাউন এলাকার একটি কাশবন থেকে অজ্ঞাতনামা কঙ্কাল ও কিছু পোশাক উদ্ধার করে পুলিশ। পোশাক দেখে স্বজনেরা মিলনকে শনাক্ত করেন।

আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন আসামি সুমন ও রনি মিয়া অটোরিকশাটি ভাড়া করে মিলনকে আক্রান বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। পরে কৌশলে তাকে আশুলিয়া মডেল টাউনের নির্জন কাশবনে নিয়ে গাঁজা সেবনের পর একপর্যায়ে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ কাশবনে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

পিবিআই জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাভারের আক্রান বাজার এলাকা থেকে মূল আসামি মো. রনি মিয়া (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মো. এরশাদ আলী (৩৪) এবং একটি গ্যারেজের মালিক মো. আবুল কালাম (৫২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় লুণ্ঠিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি সুমনকে আগেই থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে জানায়, তারা মাত্র ৬২ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয় এবং শনাক্ত এড়াতে অটোরিকশার রং পরিবর্তন করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button