

ডিআরইউ-এর পিকনিকে গিয়ে তরুণ্যে ভরা এক সম্পাদকের সঙ্গে আলাপ। বললেন, “মেগা বাজেটের কোনো মিডিয়াই আর দাঁড়াবে না।” রাতে মেধাবী এক সাংবাদিক বললেন, “মিডিয়া হাতছাড়া হয়ে এখন পুরোপুরি আইটি এক্সপার্টদের নিয়ন্ত্রণে। প্রজেক্টে সফল সবাই ব্যস্ত গুজব-মুনাফামুখী সাংবাদিকতায়।“ আরেক সহকর্মী উল্টো বললেন, “ভালো সাংবাদিকতা করলেই যে প্রজেক্ট সফল হবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই!”
নিউজ মিডিয়া নিয়ে এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-বিতর্ক-সংকটকে সঙ্গী করেই দুই দিনে বাজারে হাজির হলো দুটি দৈনিক আর দুটি ডিজিটাল মিলে চারটি মিডিয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব মিডিয়ার হঠাৎ আগমন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিস্ময়, কৌতুহল। নতুন মিডিয়া মানেই চাকরির নতুন দরজা খুলে যাওয়া হলেও ভেতরে ভেতরে অজানা শঙ্কাও চেপে বসছে।
এশিয়া পোস্ট: সবচেয়ে বেশি হাইপ তুলে ১ ফেব্রুয়ারি নবযাত্রা শুরু করেছে মেগা বাজেটের ডিজিটাল মিডিয়াটি। মিডিয়াকে মুনাফামুখী করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে মেধাবী সফল এক তরুণ সম্পাদকের হাত ধরেই চোধ ধাঁধানো অফিসকক্ষে যার নবযাত্রা ঘটলো। অনেকের মতে, ‘এশিয়া পোস্ট’ এশিয়ার সেরা এক জিডিটাল ‘মিডিয়া হাব’ উঠতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, প্রথাগত ভালো সাংবাদিকতার চেয়ে মুনাফাকেই বেশি অগ্রাধিকার দেবে মেগা পোর্টালটি।
জাতীয় অর্থনীতি: অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষায়িত দৈনিক হয়ে ১ ফেব্রুয়ারি বাজারে হাজির হয়েছে ‘অগ্রযাত্রার সঙ্গী’ স্লোগানের পত্রিকাটি। বিশেষায়িত দৈনিক বণিকবার্তার ‘বিজনেস কনসেপ্ট’কে ধারণ করা ডেটা সাংবাদিকতায় সাহস দেখানো তরুণ এক সম্পাদকের হাত ধরে যার নবযাত্রা। নিউজকে বিজনেসে রূপান্তর করার কৌশল প্রয়োগে দৈনিকটি বণিকবার্তার স্টাইলের বাইরে কতটা মৌলিক হয়ে উঠতে পারে সেটাই দেখার বিষয়।
এদিন: ‘মুক্তচিন্তার নিরপেক্ষ দৈনিক’ স্লোগানকে সঙ্গী করে শিরোনামে বোমা ফাটানোর পরিকল্পনায় ২ ফেব্রুয়ারি বাজারে চমক নিয়ে এসেছে মাঝারি বাজেটের জাতীয় দৈনিকটি। উদ্বোধনী আয়োজনে ‘তাক’ লাগানোর ‘বিজনেস কৌশল’ প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে। এক ঘনিষ্ট সহকর্মী বললেন, “টেকসই বিজনেস মডেল ছাড়াই দৈনিকটি বাজারে হাইপ তুলেছে। বড় ধরনের প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। যা সগৌরবে টিকে থাকার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।”
নবোদয়: ডিজিটাল মিডিয়ায় দারুণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ভাঙাগড়া চলছে। বিশেষত করপোরেট বিনিয়োগের ডিজিটাল নিউজ আউটলেটগুলো ব্রেকিং নিউজে ভর করেছে। সমান্তরালে শুধুই মুনাফামুখী হিসেবে কোনো কোনো পোর্টালকে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন মেধাবীদের কেউ কেউ। এমন টানাপোড়েনের মধ্যে ডিজিটালে মধ্যবিত্ত আর বুদ্ধিজীবীদের মেইনস্ট্রিম হয়ে ওঠার দৌড় শুরু করেছে প্রথম আলোর দুই ধারণাপুত্রের হাত ধরে গড়ে ওঠা ‘বাংলাস্ট্রিম’ আর ‘চরচা’। এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষার লড়াইয়ে ডিজিটালের ‘গ্লোবাল কনসেপ্ট’ নিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি কনসেপ্ট মডেল দেখিয়ে নবযাত্রায় চমকে দিল ‘শব্দের সাহসে সত্যের প্রকাশ’ স্লোগানের ‘নবোদয়’। যা প্রথাভাঙা অডিয়েন্সের কৌতুহলের দরজা খুলে দেবে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জোয়ারে মেইনমিডিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন সোশ্যাল মিডিয়া। যা প্রতিমুহূর্তেই রাজনীতির ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করে যাচ্ছে। যাতে প্রভাব হারিয়ে ফেলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভর করে গড়ে ওঠা বিজনেস মডেলের পত্রিকা আর পোর্টালগুলো। তাই সামনে ন্যারেটিভ তৈরির লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে ‘নলেজ আর্কাইভ’ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই হবে মেইনস্ট্রিম বা ডিজিটাল মিডিয়ার সফলতার মূলমন্ত্র। নবযাত্রার মিডিয়াগুলো সেদিকে কতটা নজর দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। শুভকামনা সব নতুনদের জন্য।
(চার মিডিয়ার নবযাত্রায় শুভকামনা: ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। সার্কুলার রোড, ঢাকা)
#news #media #newspaper #portal #printmedia #digital #mediahub



