সারাদেশ

আমতলীতে বজ্রপাতের ভয়াল থাবা, বাড়ছে প্রাণহানি; ঝুঁকিতে কৃষক-জেলে-শ্রমিক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা বরগুনার আমতলী উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে বজ্রপাতের ঘটনা। প্রকৃতির এই ভয়াল দুর্যোগে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রাণহানি, গবাদিপশুর মৃত্যু এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ে জীবিকার তাগিদে কাজ করা কৃষক, জেলে ও দিনমজুরদের জন্য বজ্রপাত এখন এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হঠাৎ কালো মেঘ, দমকা হাওয়া ও বজ্রের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো জনপদে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে মাঠ কিংবা নদীতে কাজ করতে হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষ।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে একাধিক কৃষক ও শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় জনপদে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে। এতে বহু পরিবার অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের আঘাতে গরু-মহিষসহ গবাদিপশুর মৃত্যুও বাড়ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়। অধিকাংশ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থার অভাব থাকায় মেঘের গর্জন শুরু হলেই জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ চালিয়ে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ, গ্রামাঞ্চলে বড় গাছ বিশেষ করে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত বজ্রপাত নিরোধক প্রযুক্তির অভাব প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। একসময় গ্রামবাংলার তালগাছ বজ্রপাত থেকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিত, কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে গাছ নিধনের ফলে সেই সুরক্ষা এখন অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে।

সচেতন মহলের দাবি, আমতলীর খোলা মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিশেষ করে তালগাছ রোপণ, আবহাওয়া সতর্কবার্তা প্রচার এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, বজ্রপাত এখন শুধু মৌসুমি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি আমতলীর মানুষের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। তাই জানমাল রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button