সারাদেশ

মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ও পাল্টা চাঁদাবাজির ঘটনায় চাঞ্চল্য, আটক ৪

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এবং পাল্টা চাঁদাবাজির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত ৫ মে খালিশপুর বাজার সংলগ্ন একটি বাড়িতে এক নারীকে হেনস্তা ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সাজ্জাদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বাড়িতে একা থাকার সুযোগে সাজ্জাদুল তাকে হেনস্তার চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয় দুই যুবক এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন।

পরে ভুক্তভোগীর স্বামী ও ওই দুই যুবক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার শর্তে সাজ্জাদুল ইসলামের কাছে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, বিষয়টি গোপন রাখার বিনিময়ে সাজ্জাদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা দেন। তবে পরবর্তীতে তাকে জিম্মি করে আরও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় এবং জোরপূর্বক দুই লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক লিখে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চার দিন ধরে নানা নাটকীয়তা ও গোপন সালিশের পর গত ৯ মে ভুক্তভোগী নারী মহেশপুর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে আদালতে পাঠায়।

এরপর অভিযুক্তের স্ত্রী তাহমিনা শম্পা পাল্টা অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ও চেক আদায় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে একটি “মধুচক্র” সাজিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমান ও মো. ফিরোজ নামে তিনজনকে আটক করে।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ যেমন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, তেমনি জিম্মি করে টাকা আদায়ের বিষয়টিও প্রাথমিক তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। উভয় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button