যশোরের বাঘারপাড়ায় পুকুর খননের নামে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ


যশোর প্রতিনিধি: যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের আল্লায়পুর গ্রামে পুকুর খননের আড়ালে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আল্লায়পুর গ্রামে একটি পুকুর খননের কথা বলে বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের ভারী যানবাহনের কারণে সম্প্রতি সংস্কার করা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদা ও মাটি ছড়িয়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বৃষ্টি হলে ছোট-বড় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হবে।
পরে মাটি উত্তোলনের স্থানে গিয়ে বড় আকারে পুকুর খননের কার্যক্রম চলতে দেখা গেলেও সেখানে জমির মালিক বা সংশ্লিষ্ট মাটি ব্যবসায়ীকে পাওয়া যায়নি।
মাটি বহনকারী ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তারা শুধুমাত্র গাড়ি চালানোর দায়িত্বে রয়েছেন। কার নির্দেশে বা কার মালিকানায় মাটি উত্তোলন হচ্ছে সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি করে পরিবেশ ও সড়কের ক্ষতি করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, ভূমি আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে মাটি বা বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত লাভের আশায় পরিবেশ ও জনস্বার্থ উপেক্ষা করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে এবং মাটি কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনার পরও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।



