তিস্তা তীর রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, উদ্বেগ স্থানীয়দের


রংপুর প্রতিনিধি: তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণে নেওয়া ২৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার ভাঙনপ্রবণ ১৯ কিলোমিটার এলাকায় চলমান এই প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, জিও ব্যাগে ওজন কম দেওয়া এবং সরকারি নিয়ম না মানার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দের ডাংরাহাট, গাবুরহেলান ও রামহরি এলাকার প্রকল্প অংশে অনিয়মের চিত্র বেশি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণী সংবলিত কোনো সাইনবোর্ড নেই। এছাড়া সাংবাদিক বা বহিরাগত কাউকে দেখলেই দায়িত্বরতদের মধ্যে অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী প্রতিটি জিও ব্যাগে বালু ও সিমেন্টের ওজন ১৭৫ কেজি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন স্থানে ওজন করে দেখা গেছে অধিকাংশ বস্তার ওজন ১৪২ থেকে ১৪৯ কেজির মধ্যে। পাশাপাশি নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, “এভাবে নিম্নমানের কাজ হলে আগামী বর্ষায় বাঁধ টিকবে না।” আরেক বাসিন্দা আক্তার হোসেন অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বালু বাইরে বিক্রিরও ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া স্লোপিংয়ের দৈর্ঘ্য কমানো, জিও ব্যাগ বসানোর ক্ষেত্রে গ্যাপ রাখা এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এলাকাবাসীর বাধার মুখে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসাম এলাকায় প্রায় ৮ হাজার নিম্নমানের জিও ব্যাগ বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এসডি মইদুল ইসলামের কাছে তথ্য চাইলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে নিম্নমানের সিমেন্টের বস্তাসহ সংশ্লিষ্ট কাজ বাতিল করা হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় তিস্তা নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



