গিয়াস রনি : নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও তাঁর সাবেক স্ত্রীর ভাই মো. আকাশ উদ্দিনকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকার একটি সিএনজি পাম্পের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও এসআরবি-১০, সিপিএসসি লালবাগের যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু স্বাক্ষরিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আকাশ উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গানগর এলাকার আমজাদ হাজী বাড়ির আমির হোসেনের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি সুবর্ণচর উপজেলার চররমিজ এলাকার গুচ্ছগ্রাম দক্ষিণ দিঘিতে। প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে তাঁর সঙ্গে তানিয়া আক্তারের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থাকার জায়গা না পেয়ে তিনি সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর এলাকার মোহাম্মদীয়া নুরানী মাদ্রাসায় রাত কাটাতেন এবং দিনে শ্রমিকের কাজ করতেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামাল উদ্দিন মাদ্রাসার মসজিদের পাকা মাঠে পুকুরপাড়ে ইটের ওপর গামছা বিছিয়ে মশার কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় লোকজনের চলাচল কমে গেলে এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে পারিবারিক বিরোধের জেরে আকাশ উদ্দিনসহ অন্য আসামিরা তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে আকাশ উদ্দিন ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই কামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল হক (৪৮) বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর সুধারাম থানায় হত্যা মামলা করেন।
এসআরবি জানায়, মামলা দায়েরের পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি আকাশ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।
নোয়াখালী প্রতিনিধি
Muktomon/TA