তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে দীপ: শেষ সঙ্গী থেকে তদন্তের কেন্দ্রে, কে এই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা?

তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে দীপ: শেষ সঙ্গী থেকে তদন্তের কেন্দ্রে, কে এই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা?

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। মৃত্যুর আগে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ যাঁকে দেখা গেছে, সেই দীপের বক্তব্য ও ঘটনার রাতের গতিবিধি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই ঘটনায় তাঁর কোনো অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

তাহসিফের মৃত্যুর পর দীপের পরিচয়, তাঁদের ছয় বছরের বন্ধুত্ব, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং ঘটনার রাতের যাত্রাপথ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে, একই রাতের ঘটনা সম্পর্কে দীপের বক্তব্যে ভিন্নতা, তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় তাঁদের উপস্থিতির কারণ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রকাশিত সংবাদ ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীপকে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতা হিসেবে বিবেচনা করে তাঁর বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থান, কললিস্ট এবং অন্যান্য আলামতের মিল পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ছয় বছরের বন্ধুত্ব, পরিচয় আইইউটি থেকে

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দীপের পুরো নাম আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তিনি সম্প্রতি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বাসা ঢাকার মোহাম্মদপুরে।

দীপ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাহসিফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় প্রায় ছয় বছরের। বয়সে বড় হওয়ায় তাহসিফকে তিনি বড় ভাই বলে সম্বোধন করতেন। তাহসিফের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর পরিচয় ছিল। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, দীপের মা-বাবা একবার তাঁদের বাসায় এসেছিলেন।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফ তাঁর ছোট ভাইয়ের খোঁজখবর রাখার দায়িত্বও তাঁকে দিতে চাইতেন। তবে এ ধরনের কথা বলার পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি।

এসব তথ্য থেকে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসে। তবে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি ও ঘনিষ্ঠতার পরিধি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে আরও তথ্য প্রয়োজন।

নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন দুজন

তাহসিফ ও দীপের সম্পর্কের আরেকটি দিক হলো ব্যবসায়িক যোগাযোগ। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফ সম্প্রতি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ওই ব্যবসার কাজ দেখাশোনা করতেন দীপ।

দীপও তাঁদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ব্যবসা নিয়ে পরিচিতজনদের মধ্যে ব্যক্তিগত মতবিরোধ হতে পারে, তবে বিষয়টি তেমন গুরুতর ছিল না।

এই ব্যবসার প্রকৃত পরিধি, বিনিয়োগের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব, গ্রাহক ও চুক্তির তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তাহসিফ ও দীপের মধ্যে কোনো আর্থিক দেনা-পাওনা বা বিরোধ ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

তদন্তের স্বার্থে ব্যবসার নথি, ব্যাংক লেনদেন, চুক্তিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

২৭ অক্টোবরের সন্ধ্যা: কোথায় গিয়েছিলেন দুজন?

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২৭ অক্টোবরের সন্ধ্যা।

পরিবারের দেওয়া তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় উত্তরায় তাহসিফের বাসার গ্যারেজে দীপের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পরে দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়।

প্রথমদিকে সাংবাদিকদের কাছে দীপের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি ওয়ার্কশপে যান। পরে উত্তরার রূপায়ণ শপিং কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর হাউস বিল্ডিং এলাকায় দুজন আলাদা হয়ে যান। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন রাত প্রায় ১২টা।

তিনি আরও দাবি করেন, বাসায় ফিরে তাহসিফকে ফোন করলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পান। পরদিন সকালেও যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

তবে পরবর্তী সময়ে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।

বক্তব্যে পরিবর্তন, টঙ্গীর মাজার বস্তি নিয়ে প্রশ্ন

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, তিনি ও তাহসিফ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের সময় পুলিশের পোশাক পরা দুজন ব্যক্তিকে দেখে তাঁরা দৌড় দেন। একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ পালিয়ে যান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, দীপের এই বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর আগের বর্ণনার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা কেন ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, সেখানে কতক্ষণ ছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে দুজন আলাদা হয়ে গেলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

এখানে কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় রাতের খাবার খেয়ে আলাদা হয়ে যাওয়ার যে বক্তব্য দীপ প্রথমে দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় একসঙ্গে যাওয়ার পরবর্তী বক্তব্যের সম্পর্ক কী? প্রথম বক্তব্যে টঙ্গী যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি কেন?

তবে বক্তব্যে অসংগতি থাকলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের অবস্থান, কললিস্ট, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং অন্যান্য আলামতের সঙ্গে বক্তব্য মিলিয়ে দেখাই তদন্তের মূল কাজ।

মোটরসাইকেল উদ্ধার: আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া গিয়েছিল।

পিবিআই কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার হোন্ডাগলি থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের স্থানের দূরত্ব প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার।

মোটরসাইকেলটি সেখানে কীভাবে গেল, কে সেটি রেখে গিয়েছিল এবং দীপ কীভাবে এর অবস্থান জানলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কারা?

দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিদের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন, নাকি অন্য কেউ—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পিবিআই এ বিষয়টি যাচাই করছে বলে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলটি মাদক কেনাবেচার পরিচিত এলাকা হওয়ায় সেখানে মাদকসংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

অন্যদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলট হিসেবে সাঁতারের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন।

তবে পরিবারের এই সন্দেহ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত, ভিসেরা পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক আলামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পিবিআইয়ের হেফাজত থেকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর

২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরদিন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি ও তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা।

৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফের সঙ্গে দীপের সর্বশেষ অবস্থান এবং ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে তথ্য যাচাই করা হচ্ছিল। তবে হেফাজতে নেওয়া বা জিজ্ঞাসাবাদ করা কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করার প্রমাণ নয়।

অনুসন্ধানে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দীপের বক্তব্যের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে অনুসন্ধান প্রয়োজন:

১. সম্পর্ক ও যোগাযোগ: দীপের সঙ্গে তাহসিফের ছয় বছরের সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল? তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগের ধরন কেমন ছিল?

২. ব্যবসায়িক লেনদেন: নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসায় কার বিনিয়োগ ছিল? আয়-ব্যয়ের হিসাব কী? কোনো আর্থিক বিরোধ ছিল কি না?

৩. ঘটনার দিনের যাত্রাপথ: উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন? সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের অবস্থান দিয়ে পুরো যাত্রাপথ পুনর্গঠন করা সম্ভব কি না?

৪. টঙ্গী যাওয়ার উদ্দেশ্য: মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার কারণ কী ছিল? সেখানে কারও সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল কি না?

৫. ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়: দীপ যাঁদের পুলিশ সদস্য বলে দাবি করেছেন, তাঁরা কারা? ওই রাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের কোনো অভিযান হয়েছিল কি না?

৬. মোটরসাইকেলের অবস্থান: তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধারস্থলে কে রেখেছিল? সেখানে সেটি কতক্ষণ ছিল?

৭. ডিজিটাল যোগাযোগ: ঘটনার দিন দুজনের মধ্যে কতবার যোগাযোগ হয়েছে? মোবাইল ফোনের কললিস্ট, অবস্থান এবং হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য কী বলছে?

৮. শেষ বার্তার উৎস: রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে পাঠানো তাহসিফের বার্তাটি তাঁর নিজের ফোন থেকেই পাঠানো হয়েছিল কি না? বার্তার সময়, অবস্থান ও ডিজিটাল উৎস যাচাই করা হয়েছে কি না?

৯. মৃত্যুর প্রকৃত কারণ: ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও অন্যান্য পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে? ফরেনসিক পরীক্ষায় মৃত্যুর আগে কোনো আঘাত বা সংঘর্ষের আলামত পাওয়া গেছে কি না?

১০. ঘটনার পর দীপের যোগাযোগ: তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর দীপ কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন? পরিবারকে দেওয়া তাঁর প্রাথমিক বক্তব্য ও তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া বক্তব্যের পার্থক্যের কারণ কী?

দীপকে ঘিরে প্রশ্ন, উত্তর মিলবে তদন্তে

আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, তিনি আইইউটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতক, মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এবং তাহসিফের প্রায় ছয় বছরের পরিচিত। তাঁদের মধ্যে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগও ছিল।

তবে এই পরিচয়ের বাইরে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগের পরিধি এবং ঘটনার রাতে টঙ্গী যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের বক্তব্য তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কিন্তু সেটিই একমাত্র সূত্র নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক তথ্য, মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান ও পরিস্থিতি, ময়নাতদন্ত এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য—সবকিছু মিলিয়েই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব।

তদন্তের মূল প্রশ্ন তাই শুধু দীপ কী বলছেন, তা নয়; বরং তাঁর প্রতিটি বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব আলামতের কতটা মিল পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ইত্তেফাক, মানবজমিন, বাংলা ট্রিবিউন ও ডেইলি স্টারে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য।