জর্ডানে দুই মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি

জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতীকী ছবি
জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রতীকী ছবি

মুক্তমন রিপোর্টার : ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে আইআরজিসি জানায়, ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, হামলায় ঘাঁটি দুটির প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমান রাখার এলাকাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তাদের ওপর ভবিষ্যতে কোনো হামলা চালানো হলে আরও কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, জুলাইয়ের শেষের পর এটিই ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এ ধরনের সামরিক অভিযান।

মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই লঞ্চারগুলো থেকে হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ কারণে সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন অভিযানে তাদের কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও নিহত ও আহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি সামনে এলো।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লারাক দ্বীপে মার্কিন অভিযান ড্রোনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও জুলাইয়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহব্যাপী বোমা হামলা চালানোর পাশাপাশি নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে।

জর্ডানের দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।