রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

 রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে কর্মকর্তারা
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে কর্মকর্তারা

মুক্তমন রিপোর্টার : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে।

গত ৯ আগস্টের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৭ জন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন। আত্রাইয়ের নিহতদের মধ্যে একই গ্রামের চারজন এবং দুইজন সহোদর রয়েছেন।

বিমানবন্দরে নিহতদের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, বাকি সাতজনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সিআইডির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী জানান, নিহত ৯ কর্মীর পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান হিসেবে ৩ লাখ টাকা রয়েছে।

এ ছাড়া মরদেহগুলো যাতে স্বজনদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায়, সে জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে বিদেশে কর্মরত থাকেন। রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্টরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। যাদের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তাদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) দেওয়ান আলি আশরাফ এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের ডেপুটি চিফ অব মিশন ইব্রাহীম আলাহমারি।