মুক্তমন প্রতিবেদক : সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উন্নত পারমাণবিক চুল্লি ও ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো প্রযুক্তি নিয়ে সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সমুদ্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের অ্যাটমিক টেকনোলজিস লাইসেন্সড ফর অ্যাপ্লিকেশনস অ্যাট সি (ATLAS) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফকির মাহবুব আনাম।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রী বলেন, স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)সহ উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সেফগার্ডস বা পরিদর্শনব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সরকার, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং পারমাণবিক ও সামুদ্রিক শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি উপস্থিত ছিলেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে আইএইএ জানিয়েছে, উন্নত এসএমআর প্রযুক্তির সমুদ্রভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে ব্যবহার এবং উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ও রয়েছে।
সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও এর নিরাপদ ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধান মেনে চলাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।