বঙ্গে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য চর্চার ইতিহাস গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত


ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার): একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউস লিমিটেড (এপিএল) প্রকাশিত ‘বঙ্গে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য চর্চার ইতিহাস’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মুমিত আল রশিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন এপিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবদুল আজিজ।
গ্রন্থটির শুভ উদ্বোধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম, বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি তানিম নওশাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খান।
বক্তারা বলেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য মানবসভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বিশ্বসাহিত্যে ফেরদৌসি, হাফিজ, শেখ সাদী, জালালুদ্দিন রুমি ও ওমর খৈয়ামের মতো কবি-সাহিত্যিকদের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই সাহিত্যধারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
তারা আরও বলেন, মধ্যযুগে বাংলায় ফারসি ছিল প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষার প্রধান ভাষা। ফলে ফারসি ভাষা কেবল রাজদরবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমাজের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে। বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারেও ফারসি ভাষার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
গ্রন্থটির লেখক গবেষক মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ফারসি ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর একটি প্রাচীন ভাষা, যার ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের। দীর্ঘ সময় বাংলার প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ভাষা হিসেবে ফারসি ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ফারসি সাহিত্য ও সুফিবাদী চেতনা বাংলায় সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বক্তারা গ্রন্থটিকে গবেষণাক্ষেত্রে একটি মূল্যবান সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এতে অবিভক্ত বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউস লিমিটেড (এপিএল) দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক, সৃজনশীল ও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করে আসছে এবং মানসম্মত পাঠ্য ও রেফারেন্স বই প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।



