জাতীয়

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুক্তমন ডেস্ক : অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ভুয়া ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্বে জমা নেওয়া লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে অস্ত্র ফেরতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—
১) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পূর্বে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র,
২) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র,
৩) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যুকৃত লাইসেন্স যাচাই শেষে বৈধ বিবেচিত অস্ত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে।

বিগত সময়ে দায়ের করা ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা পর্যালোচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে মহাসড়ক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণ সহজ হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক, জুয়া ও অনলাইন বেটিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button