সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ আইন বাতিলে উদ্বেগ


স্টাফ রিপোর্টার : সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন বাতিলের উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থাকে সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক চর্চায় বাধা সৃষ্টি করবে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল হতে ৫৫ বছর, স্বাধীনতা আর কতদূর?” শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন’ ও ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে যে পরিমাণ কাটাছেঁড়া করা হয়েছে, তাতে তা সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নটি নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, “যে জনগণ অতীতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তারা প্রয়োজন হলে বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারে।” তিনি সংবেদনশীল বিষয়গুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে তা দুর্বল করার চেষ্টা উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম এহসান এ সিদ্দিক বলেন, আইন বাতিলের মাধ্যমে দেশ অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। একইভাবে ব্যারিস্টার হাসান তারিক চৌধুরী অভিযোগ করেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বদলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, বিচার বিভাগের ওপর আস্থা ধরে রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনসহ বিভিন্ন আইনজীবী, সাবেক বিচারক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভাপতির বক্তব্যে ‘হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান ও ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, আইন রহিতের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থায় সংকট তৈরি হতে পারে।
বক্তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



