সারাদেশ

কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধস: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক | কক্সবাজার :
টানা ভারী বর্ষণের ফলে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে একজন রয়েছেন।

সর্বশেষ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৫০) বাড়ির ওপর পড়ে। এতে তিনি ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় আলী আকবরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি অংশ বসতঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

অন্যদিকে, উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত ৩টার দিকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন- উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া রাত ১টা ১০ মিনিটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪)।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আগামী দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button