ফেনীতে প্রতারককে ‘চুনকালি’: ঘুষখোরদের বেলায় কেন নয়—সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য


ফেনী, ২৩ এপ্রিল: ফেনীর লালপোল এলাকায় “মেয়ের বিয়ে”র মিথ্যা গল্প সাজিয়ে টাকা আদায়ের সময় দুই প্রতারককে হাতেনাতে ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে কালো রং মাখিয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। বুধবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার অভিযোগ ছিল ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার তারা নতুন করে একই কৌশলে টাকা তুলতে গেলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের শাস্তি দিতে মুখে কালো রং মাখিয়ে দেয়।
তবে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভিন্ন মাত্রার বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—ক্ষুদ্র প্রতারকদের বিরুদ্ধে এমন “গণবিচার” দেখা গেলেও, বড় পরিসরের দুর্নীতি বা ঘুষ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষেত্রে কেন এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি দপ্তরে গিয়ে অনেক সময় বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস বা সুযোগ সাধারণ মানুষের থাকে না। তাদের দাবি, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের বাইরে গিয়ে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া সমাজে ন্যায়বিচারের ধারণাকে দুর্বল করে। তারা মনে করেন, ছোট অপরাধীদের ওপর তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ঝাড়ার প্রবণতা থাকলেও বড় অপরাধীদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রভাব ও প্রমাণের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনের অসম প্রয়োগই এ ধরনের ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ। তারা জোর দিয়ে বলেন, টেকসই সমাধানের জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কি এভাবেই “গণবিচার”-এ রূপ নিতে থাকবে?



