সারাদেশ

সীমান্তে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার রোধে বিশেষ অভিযান, বড় সাফল্যের দাবি বিজিবির

বেনাপোল প্রতিনিধি: সীমান্ত এলাকায় ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে Border Guard Bangladesh (বিজিবি)। আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা।

বিজিবির যশোর রিজিয়নের আওতাধীন প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিটের ১১৬টি বিওপি থেকে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানির যানবাহনে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত চেকিং এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, সম্ভাব্য তেল পাচারের রুট চিহ্নিত করতে এ পর্যন্ত ২৪২৫টি টহল এবং ৯১৩টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করতে ৮৮৪টি জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে ৩৩টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে মজুদকৃত জ্বালানি তেল জব্দসহ ১ জনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ জনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া যৌথভাবে ৬৬টি নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট এবং সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিজিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের চলতি সময়ে যশোর রিজিয়নে ৯১ জন আসামিসহ প্রায় ৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২.৬ কেজির বেশি স্বর্ণ, হিরক, রৌপ্য, অস্ত্র ও গুলি।

অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে এ বছর ২৩৬৯ বোতল মদ, ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকসহ প্রায় ২২ কোটি ২৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button