

নরসিংদী সংবাদদাতা: দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি নরসিংদীর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ১৫০ শয্যার বর্ধিতাংশ (৮ তলা) নির্মাণ প্রকল্প। প্রায় ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটি একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায়নি, ফলে চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হচ্ছে চাপ ও ভোগান্তি।
জানা গেছে, নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হলেও লিফট স্থাপনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এ কারণে নতুন ভবনটি এখনো বুঝে নিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ২০০-এরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ রোগী, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি বলেন, “২০২২ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বেড ডকুমেন্টেশন রেট ছিল ১১৭ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ২২০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।” এছাড়া হাসপাতালের ইউজার ফি আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে—আগে যেখানে মাসিক আয় ছিল প্রায় ৩ লাখ টাকা, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকায়।
হাসপাতালে বর্তমানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন, রেবিস প্রতিষেধক এবং সাপে কামড়ের অ্যান্টিভেনম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক আরও জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই হাসপাতালটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সেবার মানের জন্য প্রশংসিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় আহতদেরও এখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (SCNU)-এর মাধ্যমে নবজাতকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আইসোলেশন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
নতুন ভবনের কাজ শেষের দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।” ভবনটি চালু হলে এখানে আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হবে, যা জেলার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম একটি টিমওয়ার্ক। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে দীর্ঘদিনেও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় নরসিংদীর সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



