ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা
ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা

মুক্তমন রিপোর্ট : ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সংরক্ষিত মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমান ও সামরিক ট্যাংকের ওপর উঠেও তাদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে এক ছাত্রী বহিরাগতদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের স্লোগান দিতে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। কিছু স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পেছনে গুজবের প্রভাব ছিল। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের কিছু অভিযোগও তারা শুনেছেন।

পরে জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানান, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর জবানবন্দির ভিত্তিতে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।

ডিআইজি জানান, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন রেকর্ড ও ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদেরও তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখা হবে।

ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার মেজর সিং।

এদিকে এলপিইউয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে যাচাইহীন তথ্যের পরিবর্তে দাপ্তরিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।

Muktomon/TA