ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে সতর্ক করল তেহরান

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে নিয়ে ইরানের সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্য
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে নিয়ে ইরানের সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্য

মুক্তমন রিপোর্ট : যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।

সম্প্রতি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ নিরাপদে ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে শেকারচি দাবি করেন, ১৯৮০-এর দশকের ওই যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর মতে, ওই সময়ের অভিজ্ঞতার পর বিপ্লব-পরবর্তী ইরান প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পাশাপাশি অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর গুরুত্ব দেয়।

তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করাও কঠিন ছিল। বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অনেকাংশে স্বনির্ভর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শেকারচির ভাষ্য, অতীতের তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন অনেক বেশি। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন হলে ইরানের হাতে নতুন সামরিক প্রযুক্তি ও ‘চমক’ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর প্রসঙ্গে শেকারচি দাবি করেন, ইরান এসব দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি। বরং ইরানের পাল্টা হামলাগুলো ওই দেশগুলোর ভেতরে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই পিছু হটবে না বলেও সতর্ক করেন।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেকারচি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তেহরান দেবে না। তাঁর দাবি, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী যত দ্রুত প্রত্যাহার হবে, তাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতিও তত কম হবে।

Muktomon/TA