মুক্তমন রিপোর্ট : ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর অবতরণকারী নৌবহর ইরানের আশপাশে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
আল জাজিরাকে ওই কর্মকর্তা জানান, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন উভচর নৌবহর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। মেকিন আইল্যান্ডের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার মার্কিন মেরিন সেনা রয়েছেন।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন থাকবে। এতে ইরানকে মোকাবিলায় মার্কিন নেতৃত্বের হাতে ‘অনেকগুলো বিকল্প’ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপের পাশাপাশি ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন উভচর নৌবহরও যাত্রা করেছে। এই নৌবহরে মেকিন আইল্যান্ডের সঙ্গে ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ ও ইউএসএস জন পি. মুর্থা রয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন নামে আরও দুটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। ফলে রুজভেল্ট পৌঁছালে ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অবস্থান করবে। এর পাশাপাশি ইউএসএস বক্সারকে ঘিরে একটি উভচর প্রস্তুতি নৌবহরও ওই অঞ্চলে রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন করে নৌবহর মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, নতুন করে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। রুজভেল্ট স্ট্রাইক গ্রুপ ও মেকিন আইল্যান্ড উভচর নৌবহরের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ২০ হাজার ছাড়াতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক প্রস্তুতির সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা জোরদারের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে কবে বা কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
তথ্যসূত্র : আল জাজিরা ও এপি
Muktomon/TA