ভারতকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা, যা বললেন রুশ রাষ্ট্রদূত

ভারতের উত্থান নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ
ভারতের উত্থান নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ

মুক্তমন রিপোর্ট : ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে চাপ বাড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। তিনি দাবি করেছেন, ভারতের উত্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলিপভ এ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের রাইসিনা সংলাপে এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে প্রতিযোগী হিসেবে ‘পরবর্তী চীন’ হতে দেবে না। আলিপভ ওই মন্তব্যকে ‘ফ্রয়েডিয়ান স্লিপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আলিপভ বলেন, ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে ভবিষ্যতে পরাশক্তিতে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে। রুশ রাষ্ট্রদূতের দাবি, রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রাহাম অ্যাক্ট’ও সেই চাপের অংশ।

তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ রয়েছে। আলিপভের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।

ভারতের রুশ তেল কেনার প্রসঙ্গে আলিপভ বলেন, মস্কোর স্বার্থে নয়, নিজেদের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থেই ভারত রাশিয়ার তেল কিনছে। তার মতে, তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন আলিপভ। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান। বৈশ্বিক রাজনীতিতে পরিবর্তন এলেও সম্পর্ককে কোনো তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আলিপভ আরও বলেন, সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিস্তৃত সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। তার মতে, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও কার্যকর ভূমিকা এবং একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকল্প প্ল্যাটফর্ম চায়।

Muktomon/TA