আইন-অপরাধ

রামপালে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলনের অভিযোগ, অভিযানে বন্ধ কার্যক্রম

মুক্তমন রিপোর্ট : রামপাল উপজেলা এর ৬ নম্বর হুড়কা ইউনিয়নে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সুজন মজুমদার এর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ড্রেজার মেশিন অপসারণ করে বালি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হুড়কা ইউনিয়নের ঝলমলিয়া দিঘীরপাড় সংলগ্ন এলাকায় মাছ চাষ ও কৃষিজমির পাশে ভেলার ওপর ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে কৃষিজমির ক্ষতি, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ এবং ধানক্ষেতে পলি জমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত সুজন মজুমদার প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

জমির মালিকের অভিযোগের পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে জানানো হয়। পরে রামপাল প্রেসক্লাব এর সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার মেশিন চলমান অবস্থায় দেখতে পান।

সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানালে ড্রেজার চালক মোবাইল ফোনে সুজন মজুমদার এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তখন তিনি ড্রেজার চালু রাখার নির্দেশ দেন এবং সাংবাদিক ও এলাকাবাসীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

পরে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করলে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা পায়। তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেজার মেশিন অপসারণ এবং অবৈধ বালি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধ বালু উত্তোলন দেশের পরিবেশ, নদী ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছিলেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে।

এদিকে, মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সুজন মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি রামপাল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button