সলঙ্গা পশুর হাটে কোরবানির আমেজ, ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়


সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা পশুর হাট জমে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে। সোমবার বসা এই হাটে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা ভুটভুটি, পিকআপ ও ট্রাকে করে গরু-ছাগল নিয়ে আসতে শুরু করেন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁকডাক ও দরদামে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সলঙ্গা হাটে এবার ছোট ও মাঝারি আকারের গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি দেখা গেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সীমিত বাজেটের মধ্যে কোরবানির পশু কিনতে এসব পশুর দিকেই ঝুঁকছেন।
স্থানীয় খামারি ও পশুপালনকারীরা জানান, বছরজুড়ে খড়, খৈল, ভুষি, কাঁচা ঘাস ও বিভিন্ন খাদ্য দিয়ে তারা পশু লালন-পালন করেছেন। তবে গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
হাট ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই হাটে কয়েক কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে ভালো মানের দেশি ও খামারে লালিত পশু কিনতে আসেন।
ডা. আমিনুল ইসলাম, রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, এ বছর উপজেলায় মোট কোরবানির পশুর সংখ্যা ৭১ হাজার ৭২টি। এর মধ্যে স্থানীয় চাহিদা ২৬ হাজার ৩২৮টি এবং উদ্বৃত্ত প্রায় ৪৪ হাজার ৭৪৮টি পশু দেশের অন্যান্য এলাকার চাহিদা পূরণ করবে।
তিনি আরও জানান, রায়গঞ্জ উপজেলায় সলঙ্গা, ভূইয়াগাঁতী, ঘুড়কা, নলকা, সাহেবগঞ্জ ও হাটিকুমরুলসহ মোট ৬টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ উপলক্ষে হাটে মেডিকেল টিমও রাখা হয়েছে।
হাট ইজারাদার কে.এম রোকনুজ্জামান বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আছলাম আলী, সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), জানান, ঈদকে সামনে রেখে গরু চুরি, ছিনতাই ও জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। হাট এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।



