আজমল হুদা মিঠুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বরণ করে নিলো বিএনপি


মুক্তমন রিপোর্ট : উত্তরা বিএনপির পরিচিতমুখ রাজপথের কর্মী ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত আজমল হুদা মিঠু’র বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
২৩ জানুয়ারি বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্য সচিব মোস্তফা জামান দলীয় আদেশে এই প্রত্যাহারে অনুমোদন করেছেন বলে দলের মহানগর শাখার দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে লিখা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা এবং নীতি ও আদর্শ মেনে দলকে শক্তিশালী করতে যথাসাধ্য ভুমিকা রাখবেন বলে দলের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে আজমল হুদা মিঠুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কেটে যাওয়ায় উত্তরা মডেল থানা ও পশ্চিম থানা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মধ্যে খুশির জোয়ার উঠেছে। বিপুল আনন্দে তারা শুক্রবার সন্ধ্যায় মাঠের পরিক্ষিত এই নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়।
আজমল হুদা মিঠু ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতি শুরু করলেও উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সদস্য সচিব এবং সবশেষ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উত্তরা মডেল থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিএনপির উত্তরার রাজনীতিতে বড় ভূমিকায় আসেন।
জুলাই আন্দোলনে তার সরব উপস্থিতি ছিলো কিন্তু ব্যানার ছিলোনা, কর্মীরা সবাই ছিলো নেতা হয়তো অনেকেই ছিলোনা। নেতাদের মধ্য ব্যাতিক্রম ছিলেন উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির পরিক্ষিত ও ত্যাগি নেতা আজমল হুদা মিঠু।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে উত্তরা অঞ্চলের এক পরিচিত ও আস্থার নাম আজমল হুদা মিঠু। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে।
আজমল হুদা মিঠুর রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রদলের মাধ্যমে। তিনি দীর্ঘ সময় উত্তরা থানা যুবদলের সভাপতি হিসেবে যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে নিরলস কাজ করে গেছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মামলা, হামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এমনকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া মিথ্যা মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্তও হয়েছিলেন। তবুও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই লড়াকু নেতা। চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার এক দফার আন্দোলনেও তিনি সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি আজমল হুদা মিঠুর বড় পরিচয় তার মানবিকতা। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে—তা হোক ভয়াবহ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ—তিনি সবসময় নিজ উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সরকারি বা দলীয় ত্রাণের আশায় বসে না থেকে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্তমানবতার সেবায় বিলিয়ে দিয়েছেন খাদ্য, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। উত্তরার অসহায় ও দুস্থ মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তার এই নিরবচ্ছিন্ন সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ সাধারণ মানুষ তাকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। এলাকার মানুষের মতে, মিঠু কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি বিপদের বন্ধু।
নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে আজমল হুদা মিঠু বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি রাজনীতি করি। রাজনীতি মানেই মানুষের সেবা করা। যত দিন বেঁচে থাকব, মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেব।” রাজপথের লড়াকু এই সৈনিক আগামী দিনেও বিএনপির রাজনীতি ও জনসেবায় সমানভাবে সক্রিয় থাকবেন বলে প্রত্যাশা উত্তরার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের।


